সারাদেশে শনিবার উদযাপিত হবে মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। টানা ৩০ দিন সিয়াম সাধনার পর ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় ও আনন্দ-উৎসবের প্রস্তুতি নিয়েছেন।
দেশের কোথাও বৃহস্পতিবার ১৪৪৭ হিজরি সনের শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় শনিবার ঈদ উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।
বৈঠক শেষে তিনি দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জানান, নিয়ম অনুযায়ী ২৯ রমজানে চাঁদ দেখা না গেলে ৩০টি রোজা পূর্ণ করে পরদিন ঈদ উদযাপন করা হয়।
জাতীয় ঈদগাহ ও ঢাকায় জামাতের প্রস্তুতি
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৮টায়
আবহাওয়া প্রতিকূল হলে সকাল ৯টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে বিকল্প জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান জামাতে ইমামতি করবেন মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক।
জাতীয় ঈদগাহে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩ হাজার ৫০০ নারী মুসল্লির জন্য পৃথক ব্যবস্থা থাকবে। নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ, ওজুখানা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে আগারগাঁওয়ের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে সকাল ৮টায় আরেকটি কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সকাল ৭টা থেকে বেলা পৌনে ১১টা পর্যন্ত পাঁচটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদেও পৃথক জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।
সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও দেশব্যাপী আয়োজন
ঈদকে কেন্দ্র করে ঢাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।
জাতীয় ঈদগাহ ও আশপাশের এলাকায় সিসি ক্যামেরা, মেটাল ডিটেক্টর, আর্চওয়ে ও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। সঙ্গে ডগ স্কোয়াড ও বিশেষ টিম মোতায়েন থাকবে।
ঈদের প্রধান জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বিচারপতি, মন্ত্রীপরিষদের সদস্য এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা অংশ নিতে পারেন বলে জানা গেছে।
এদিকে শোলাকিয়া মাঠে দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাতের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিতব্য এই জামাতে তিন লাখেরও বেশি মুসল্লির অংশগ্রহণের আশা করা হচ্ছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশজুড়ে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নানা আয়োজন নেওয়া হয়েছে।
এরই মধ্যে শুরু হয়েছে ৭ দিনের সরকারি ছুটি। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে আলোকসজ্জা ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
ঈদ উপলক্ষ্যে হাসপাতাল, কারাগার, শিশু সদন, বৃদ্ধ নিবাসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উন্নতমানের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিনামূল্যে পার্ক, জাদুঘর, আহসান মঞ্জিল ও লালবাগ কেল্লা-এ প্রবেশের সুযোগ রাখা হয়েছে।
সব মিলিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সারাদেশে উদযাপিত হতে যাচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর।