আবু বকর সিদ্দিক,
বগুড়ায় সম্পত্তির বিরোধে আদালত কতৃক উভয়পক্ষকে স্থিতিবস্থার নির্দেশ। বিবাদীদের একাধিকবার আদালত অবমাননা করে জোরপূর্বক ভূমি দখল ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জন্য মামলা দায়ের।সুলতান সরকার বাদী হয়ে বিবাদী ১।মোঃ ইউনুস প্রধান (৩৭), ২।মোঃ আব্দুর রেজ্জাক সরকার (৪৫), ৩।মোঃ দুলা প্রধান (৩৮), ৪। মোঃ রফিকুল ইসলাম (৩৮), ৫।মোঃ মিন্টু মিয়া (৪০),৬।মোঃ কালু (৪২), ৭।মোঃ আব্দুল খালেক (৪৫), ৮।মোঃ শাজাহান আলী (৪৬), ৯।মোঃ জয়নাল প্রাং(৪৩), ১০।মোছাঃ জেসমিন বেগম (৩৫) বিরুদ্ধে।
মামলায় জানা যায়, বগুড়া সারিয়াকান্দি উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের বড়ইকান্দি গ্রামের মৃত হযরত আলীর পূত্র সুলতান সরকারের পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি। মৃত হযরত আলীর আপন বোন রেনু বেগমের ছেলে ইউনুস প্রধান ও অন্যান্য ওয়ারিশগন অন্যায় ও বেআইনী ভাবে সম্পদ দাবি করলে তার স্ত্রী ও মেয়ে বাদী হয়ে জেলা বগুড়ার সারিয়াকান্দি সিভিল জজ আদালতে বন্টন মামলা ১১/২০২১ দায়ের করেন। মামলাটি মাননীয় আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করলে উভয় পক্ষের শুনানীতে স্থিতিবস্থার নির্দেশ প্রদান করেন। এমনবস্থায় বিবাদীগণ মাননীয় আদালতের স্থিতিবস্থাকে অমান্য করে একাধিকবার বাদীর রোপনকৃত ধান,পাট ও সরিষা ফসল সন্ত্রাসী বাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে জোরপূর্বক কেটে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে। একাধিকবার থানায় অভিযোগ করেও কোন সুফল না পেয়ে সুলতান সরকার আদালতে ফৌজদারী মামলা করেন। মাননীয় আদালতের মামলাগুলো বিচারাধীন রয়েছে। আমন মৌসুমে সুলতান সরকার গুটি স্বর্ণা ধান রোপন করেন। বিবাদী ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীসহ জোর পূর্বক ধান কাটার প্রস্তুতি গ্রহনের সময় সুলতান সরকার বিজ্ঞ আদালতে বন্টন মামলায় দরখান্ত করে ধান কাটার অনুমতির জন্য। গত ১১/১১/২৫ উভয় পক্ষের শুনানীতে মাননীয় আদালত সুলতান সরকারের পক্ষে মঞ্জুর করেন। এছাড়াও মামনীয় আদালত বিবাদীকে বাদী সুলতান সরকারের ধান কাটতে বাধা প্রদান না করার নির্দেশনা আরোপ করেন। আসামীগণ আদালতের এই আদেশকে ও অমান্য করে তার সন্ত্রাসী বাহিনীর সহযোগীতা নিয়ে গত ০৪/১২/২৫ ইং আনুমানিক সকাল সাতটায় সুলতান সরকারের অনুপস্থিতিতে রোপনকৃত আমন ধান জোরপূর্বক কাটতে শুরু করে। সুলতান সরকার বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মামলার স্বাক্ষীগণের সহযোগীতায় ধান কাটতে বাধা প্রদান করে। আসামীগণ প্রচন্ড ক্ষিপ্ত হয়ে মারপিট করার প্রস্তুতি গ্রহন করে। সুলতান সরকার ও স্বাক্ষীগণ পরিস্থিতি অস্বাভাবিক মনে করে প্রান নাশের আশঙ্কা থেকে বাচতে নিরাপদ স্থানে চলে যায়। সুলতান সরকার আইনী সহযোগিতার জন্য জাতীয় সেবা ৯৯৯ নাম্বারে ফোন দিয়ে পুলিশের সহযোগীতার জন্য জানান। কিছুক্ষন পরে জরুরী সেবা ভিত্তিতে সারিয়াকান্দি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আসামীদের ধান কাটতে নিষেধ করে। পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করার কিছু সময় পরেই আসামীগণ ধান কাটতে শুরু করে। চাষকৃত ৯৫ শতাংশ জমির প্রায় ৬০ মন ধান ও খড় কেটে নিয়ে যায় ইউনুস প্রধান তার বাসায়। ধান ও খড় চুরির জন্য প্রায় এক লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সুলতান সরকারের পুকুর থেকে সকাল আনুমানিক দশ ঘটিকায় জ্বাল দিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় দুই মন মাছ চুরি করে প্রায় ষোল হাজার টাকার ক্ষতি করে। দুইটা ক্ষতি একত্রে প্রায় এক লক্ষ ষোল হাজার টাকা ক্ষতিসাধন করে। আসামীগণর মধ্যে একজন অত্র ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের যুবদলের সেক্রেটারী এবং জনবলে অধিক। এজন্য তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ এবং মামলা করেও কোন সুফল পাওয়া যায় না। সুলতান সরকার ধান উদ্ধারের ব্যর্থ হলে থানায় বিবাদীদের বিরুদ্ধে ০৯/১২/২০২৬ ইং এজাহার করতে বাধ্য হয়। সারিয়াকান্দি অফিসার ইনচার্জ এজাহারটি গ্রহন করেন। বিভিন্ন ভাবে তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সত্যতা প্রমানিত হলে এজাহারটি মামলায় না নিয়ে সুলতান সরকারের প্রতি বিভিন্ন ভাবে বিরক্তিকর মনোভাব প্রকাশ করে। থানায় থেকে বিচার না পেয়ে ন্যায় বিচারের জন্য বিজ্ঞ আদালতে মামলা করেন। উল্লেখ্য, সুলতান সরকার উক্ত ঘটনাগুলো প্রমাণের জন্য ভিডিও ধারণ করে রেখেছেন।