সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট ও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে ব্যাহত হচ্ছে ভূমি নিবন্ধন সেবা কার্যক্রম। অনুমোদিত ছয়টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র তিন জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। ফলে দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারী দিয়ে অফিস পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে সেবার মান বজায় রাখা এবং শতভাগ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অফিস সূত্রে জানা গেছে, রায়গঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সাব-রেজিস্ট্রারের একটি পদে একজন, অফিস সহকারীর একটি পদে একজন এবং তিনটি মোহরার পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র একজন। এছাড়া অফিস সহায়কের একটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। সব মিলিয়ে ছয়টি অনুমোদিত পদের মধ্যে বর্তমানে মাত্র তিন জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করছেন।
জনবল সংকটের পাশাপাশি নিজস্ব ভবনের অভাবেও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সেবা নিতে আসা মানুষকে। রায়গঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের জন্য নির্ধারিত জমি থাকলেও এখনো নির্মাণ করা হয়নি আধুনিক অফিস ভবন। পুরাতন কোর্ট ভবনের ছোট আকারের পাঁচটি কক্ষে কোনো রকমে পরিচালিত হচ্ছে অফিসের দৈনন্দিন কার্যক্রম।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৩ সাল থেকে রায়গঞ্জ উপজেলা সদর এলাকায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে এ অফিসে ৬৩ জন দলিল লেখক রয়েছেন। উপজেলার ব্রহ্মগাছা, চান্দাইকোনা, ধানগড়া, পাঙ্গাসী, ধামাইনগর ও সোনাখাড়া ইউনিয়ন এবং রায়গঞ্জ পৌরসভা এলাকার জমি রেজিস্ট্রেশনের কাজ এ অফিসের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৩ হাজার ৪০০টি দলিল নিবন্ধন করা হয় এখানে।
রায়গঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার মো. এবাদত হোসেন বলেন, রায়গঞ্জ অফিসের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে কাজীপুর ও গান্ধাইল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসেও দায়িত্ব পালন করছি। ফলে সপ্তাহে মাত্র দুই দিন রায়গঞ্জ অফিসে রেজিস্ট্রির জন্য দলিল দাখিল গ্রহণ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, জনবল সংকট নিরসন এবং নিজস্ব জমিতে আধুনিক অফিস ভবন নির্মাণ করা হলে সেবার গতি বাড়বে। একই সঙ্গে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দলিলাদির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সহজ হবে।
স্থানীয়দের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এ সরকারি দপ্তরে দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও আধুনিক ভবন নির্মাণ করা না হলে ভবিষ্যতে সেবার মান আরও ব্যাহত হবে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রার শরীফ তোরাফ হোসেন বলেন, রায়গঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নিজস্ব আধুনিক ভবন নির্মাণ এবং জনবল সংকট নিরসনের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সমস্যাগুলোর সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।