সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটি ইউনিয়ন-এর পেঁচিবাড়ি জামে মসজিদে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে বিরোধের জেরে মসজিদে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে মুসল্লিরা বাধ্য হয়ে মসজিদের বাইরে সড়কের পাশে খোলা জায়গায় নামাজ আদায় করেন। রোববার ভোরে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মসজিদের ইমাম আব্দুল হাইয়ের কেরাত ও কয়েক বছর আগের কিছু বিষয় নিয়ে গ্রামবাসীর একাংশের আপত্তি ছিল। ১২ ফেব্রুয়ারির পর গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ তাঁকে পরিবর্তনের দাবি তোলেন। পরে সমঝোতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়, তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়াবেন এবং তারাবির নামাজ অন্য ইমাম দিয়ে পড়ানো হবে।
বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে মসজিদ কমিটির সভাপতি আবুল কালাম মাস্টারকে বলা হলে তিনি সেক্রেটারি মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেন। তবে বৈঠক নিয়ে মতভেদ তৈরি হয়। প্রথম তারাবির আগের দিন সভাপতি গ্রামবাসীকে জানান, এ বিষয়ে আলোচনায় বসা সম্ভব হচ্ছে না।
এ অবস্থায় গ্রামবাসীর একটি অংশ নতুন ইমাম নিয়ে মসজিদে গেলে সেখানে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে মুরব্বিরা পরিস্থিতি সামাল দিলেও বিরোধ মীমাংসা হয়নি।
শনিবার রাতে গ্রামের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অন্য ইমামের ইমামতিতে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করা হয়। তবে রোববার ফজরের নামাজ পড়তে গিয়ে মুসল্লিরা মসজিদের প্রধান ফটকে তালা ঝুলানো দেখতে পান। এতে তাঁরা বাইরে সড়কে নামাজ আদায় করেন। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, জামায়াত-সমর্থিত একটি পক্ষ মসজিদে তালা দেয়। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ইমামকে নিয়ে মতবিরোধ ছিল। তবে কে বা কারা তালা দিয়েছে, তা তিনি জানেন না।
বাগবাটি ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মো. ছানোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনাটিকে অযথা দলীয় রূপ দেওয়া হচ্ছে। এটি মূলত গ্রামের অভ্যন্তরীণ বিরোধ। মসজিদে তালা দেওয়ার ঘটনা সমর্থনযোগ্য নয়।
সদর থানার সহকারী উপপরিদর্শক শফিকুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। উপস্থিত লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি। পরে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও মসজিদ কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে তালা খুলে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।