Dhaka ০৪:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংর্বশেষ সংবাদ:
রায়গঞ্জ উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে মো. আবু হানিফ খান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. ওমর ফারুক খান জুবায়ের রায়গঞ্জে কছিম উদ্দিন হত্যা: দীর্ঘ তদন্তে বেরিয়ে এল রহস্য, গ্রেপ্তার ২ রায়গঞ্জে সংখ্যালঘু গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ, অভিযুক্ত গরু ব্যবসায়ী রায়গঞ্জের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানালেন হাফিজুর রহমান রায়গঞ্জে ভিপি আয়নুল হক এমপি প্রমীলা ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন তাড়াশে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে ১ হাজার পিছ শাড়ি বিতরণ করলেন জহুরুল ইসলাম আকন্দ রায়গঞ্জে ৪০০ গ্যাস সিলিন্ডার লুট, বগুড়ায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার ৩ রায়গঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত, গল্পবলা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার রায়গঞ্জে উপজেলা জেন্ডার ইকুয়ালিটি ফোরাম (GEF)-এর সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের ত্রৈমাসিক অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে’—অব্যাহতি চেয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা আব্দুল লতিফের আকুতি

পান্তা ভোজ ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে রায়গঞ্জে নববর্ষ বরণ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:২৭:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ৯০ Time View

বর্ণাঢ্য আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আনন্দ শোভাযাত্রা, পান্তা ভোজসহ নানা আয়োজনে মুখর হয়ে ওঠে পুরো উপজেলা। নতুন বছরকে বরণ করতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবটি পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল থেকেই রায়গঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। সকালবেলায় পান্তা ভোজের আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের কর্মসূচি। ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবার পান্তা-ইলিশসহ নানা পদ উপভোগ করেন আগত অতিথি ও সাধারণ মানুষ। পান্তা ভোজ ঘিরে সৃষ্টি হয় এক আনন্দঘন পরিবেশ।

পরে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় ‘এসো হে বৈশাখ’ শিরোনামে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে গান, নৃত্য ও আবৃত্তির মাধ্যমে তুলে ধরা হয় বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। শিল্পীদের প্রাণবন্ত পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে এবং পুরো আয়োজনজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে বৈশাখের উৎসবের আমেজ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আয়নুল হক। বক্তব্যে বক্তারা বাংলা নববর্ষের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ঐক্য ও নতুন প্রত্যয়ের বার্তা বহন করে।

পান্তা ভোজ শেষে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শুরু হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রায় রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন, মুখোশ ও বৈশাখী সাজে সজ্জিত হয়ে অংশ নেন শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এতে উৎসবটি পায় আরও প্রাণবন্ত রূপ।

দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্যে ছিল লোকজ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, গ্রামীণ ঐতিহ্যভিত্তিক প্রদর্শনী এবং শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা। এসব আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শামছুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মো. খাইরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. দুলাল হোসেন খান এবং ব্যারিস্টার মো. আব্দুল বাতেন। এছাড়াও উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষে, দিনব্যাপী আনন্দঘন আয়োজনের মধ্য দিয়ে রায়গঞ্জ উপজেলার মানুষ পুরোনো বছরের সব গ্লানি ও ব্যর্থতা ভুলে নতুন বছরের সম্ভাবনা ও প্রত্যাশাকে বরণ করে নেয়। উৎসবটি উপজেলাবাসীর মাঝে নতুন উদ্দীপনা ও প্রেরণা যোগায়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

রায়গঞ্জ উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে মো. আবু হানিফ খান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. ওমর ফারুক খান জুবায়ের

পান্তা ভোজ ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে রায়গঞ্জে নববর্ষ বরণ

Update Time : ০৪:২৭:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

বর্ণাঢ্য আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আনন্দ শোভাযাত্রা, পান্তা ভোজসহ নানা আয়োজনে মুখর হয়ে ওঠে পুরো উপজেলা। নতুন বছরকে বরণ করতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবটি পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল থেকেই রায়গঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। সকালবেলায় পান্তা ভোজের আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের কর্মসূচি। ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবার পান্তা-ইলিশসহ নানা পদ উপভোগ করেন আগত অতিথি ও সাধারণ মানুষ। পান্তা ভোজ ঘিরে সৃষ্টি হয় এক আনন্দঘন পরিবেশ।

পরে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় ‘এসো হে বৈশাখ’ শিরোনামে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে গান, নৃত্য ও আবৃত্তির মাধ্যমে তুলে ধরা হয় বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। শিল্পীদের প্রাণবন্ত পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে এবং পুরো আয়োজনজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে বৈশাখের উৎসবের আমেজ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আয়নুল হক। বক্তব্যে বক্তারা বাংলা নববর্ষের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ঐক্য ও নতুন প্রত্যয়ের বার্তা বহন করে।

পান্তা ভোজ শেষে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শুরু হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রায় রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন, মুখোশ ও বৈশাখী সাজে সজ্জিত হয়ে অংশ নেন শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এতে উৎসবটি পায় আরও প্রাণবন্ত রূপ।

দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্যে ছিল লোকজ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, গ্রামীণ ঐতিহ্যভিত্তিক প্রদর্শনী এবং শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা। এসব আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শামছুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মো. খাইরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. দুলাল হোসেন খান এবং ব্যারিস্টার মো. আব্দুল বাতেন। এছাড়াও উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষে, দিনব্যাপী আনন্দঘন আয়োজনের মধ্য দিয়ে রায়গঞ্জ উপজেলার মানুষ পুরোনো বছরের সব গ্লানি ও ব্যর্থতা ভুলে নতুন বছরের সম্ভাবনা ও প্রত্যাশাকে বরণ করে নেয়। উৎসবটি উপজেলাবাসীর মাঝে নতুন উদ্দীপনা ও প্রেরণা যোগায়।