Dhaka ১২:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংর্বশেষ সংবাদ:
রায়গঞ্জ উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে মো. আবু হানিফ খান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. ওমর ফারুক খান জুবায়ের রায়গঞ্জে কছিম উদ্দিন হত্যা: দীর্ঘ তদন্তে বেরিয়ে এল রহস্য, গ্রেপ্তার ২ রায়গঞ্জে সংখ্যালঘু গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ, অভিযুক্ত গরু ব্যবসায়ী রায়গঞ্জের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানালেন হাফিজুর রহমান রায়গঞ্জে ভিপি আয়নুল হক এমপি প্রমীলা ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন তাড়াশে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে ১ হাজার পিছ শাড়ি বিতরণ করলেন জহুরুল ইসলাম আকন্দ রায়গঞ্জে ৪০০ গ্যাস সিলিন্ডার লুট, বগুড়ায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার ৩ রায়গঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত, গল্পবলা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার রায়গঞ্জে উপজেলা জেন্ডার ইকুয়ালিটি ফোরাম (GEF)-এর সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের ত্রৈমাসিক অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে’—অব্যাহতি চেয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা আব্দুল লতিফের আকুতি

মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে’—অব্যাহতি চেয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা আব্দুল লতিফের আকুতি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৩৭:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৯৯ Time View

রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দায়ের করা মামলায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন খারিজা ঘুঘাট আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা মো. আব্দুল লতিফ। তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার ধুবিল ইউনিয়নের খারিজা ঘুঘাট আশ্রয়ণ প্রকল্পে এক লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন আব্দুল লতিফ।

লিখিত বক্তব্যে আব্দুল লতিফ বলেন, তিনি আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস করেন এবং জীবিকার তাগিদে ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে কাজ করেন। সেখান থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ করেন। সম্প্রতি জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে সলঙ্গা থানা আমলী আদালত, সিরাজগঞ্জে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে মামলায় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই জড়িত নন বলে দাবি করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ধুবিল ইউনিয়নের খারিজা ঘুঘাট গ্রামের কেসমত আলীর ছেলে আব্দুল খালেক তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় আসামি করেছেন। এতে তিনি ও তার পরিবার মানসিকভাবে চরম দুশ্চিন্তা ও হয়রানির মধ্যে রয়েছেন।

আব্দুল লতিফের আরও অভিযোগ, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় পক্ষপাতমূলক তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে তাকে ডাকাতি, চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

আব্দুল লতিফ বলেন, “আমি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নই। জীবিকার তাগিদে প্রতিনিয়ত ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করে সংসার চালাই। অথচ আমাকে বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। আমি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি চাই।”

তবে আব্দুল লতিফের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামলার বাদী/অভিযুক্ত পক্ষের সদস্য আব্দুল খালেক। তিনি বলেন, “আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে আমি কোনো মিথ্যা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ করিনি। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের ঘটনায় যে মামলা হয়েছে, সেখানে প্রকৃত ঘটনা ও প্রাসঙ্গিক তথ্যের ভিত্তিতেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।”

এ বিষয়ে ধুবিল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সৈয়দ আলী বলেন, “আব্দুল লতিফ একজন নিরীহ আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা। জীবিকার তাগিদে তিনি ঢাকায় কাজ করেন। গ্রামের মানুষ তাকে একজন দরিদ্র ও নিরীহ ব্যক্তি হিসেবেই জানেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয় বলে আমার জানা।”

ধুবিল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বলেন, আব্দুল লতিফ ও অভিযোগকারী পক্ষের মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। তবে আব্দুল লতিফ সম্পর্কে তিনি বলেন, “ছেলেটি এতটা খারাপ নয়।”

মামলার বিষয়ে সলঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসলাম আলী বলেন, “মামলাটি আদালতের মাধ্যমে হয়েছে। অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছে। তদন্তে যেসব তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাবে, সেগুলোর ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিরপরাধ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।”

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, বিষয়টি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন। নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া—এটাই তাদের প্রত্যাশা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

রায়গঞ্জ উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে মো. আবু হানিফ খান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. ওমর ফারুক খান জুবায়ের

মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে’—অব্যাহতি চেয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা আব্দুল লতিফের আকুতি

Update Time : ০৪:৩৭:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দায়ের করা মামলায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন খারিজা ঘুঘাট আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা মো. আব্দুল লতিফ। তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার ধুবিল ইউনিয়নের খারিজা ঘুঘাট আশ্রয়ণ প্রকল্পে এক লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন আব্দুল লতিফ।

লিখিত বক্তব্যে আব্দুল লতিফ বলেন, তিনি আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস করেন এবং জীবিকার তাগিদে ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে কাজ করেন। সেখান থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ করেন। সম্প্রতি জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে সলঙ্গা থানা আমলী আদালত, সিরাজগঞ্জে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে মামলায় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই জড়িত নন বলে দাবি করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ধুবিল ইউনিয়নের খারিজা ঘুঘাট গ্রামের কেসমত আলীর ছেলে আব্দুল খালেক তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় আসামি করেছেন। এতে তিনি ও তার পরিবার মানসিকভাবে চরম দুশ্চিন্তা ও হয়রানির মধ্যে রয়েছেন।

আব্দুল লতিফের আরও অভিযোগ, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় পক্ষপাতমূলক তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে তাকে ডাকাতি, চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

আব্দুল লতিফ বলেন, “আমি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নই। জীবিকার তাগিদে প্রতিনিয়ত ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করে সংসার চালাই। অথচ আমাকে বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। আমি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি চাই।”

তবে আব্দুল লতিফের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামলার বাদী/অভিযুক্ত পক্ষের সদস্য আব্দুল খালেক। তিনি বলেন, “আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে আমি কোনো মিথ্যা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ করিনি। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের ঘটনায় যে মামলা হয়েছে, সেখানে প্রকৃত ঘটনা ও প্রাসঙ্গিক তথ্যের ভিত্তিতেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।”

এ বিষয়ে ধুবিল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সৈয়দ আলী বলেন, “আব্দুল লতিফ একজন নিরীহ আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা। জীবিকার তাগিদে তিনি ঢাকায় কাজ করেন। গ্রামের মানুষ তাকে একজন দরিদ্র ও নিরীহ ব্যক্তি হিসেবেই জানেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয় বলে আমার জানা।”

ধুবিল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বলেন, আব্দুল লতিফ ও অভিযোগকারী পক্ষের মধ্যে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। তবে আব্দুল লতিফ সম্পর্কে তিনি বলেন, “ছেলেটি এতটা খারাপ নয়।”

মামলার বিষয়ে সলঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসলাম আলী বলেন, “মামলাটি আদালতের মাধ্যমে হয়েছে। অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছে। তদন্তে যেসব তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাবে, সেগুলোর ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিরপরাধ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।”

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, বিষয়টি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন। নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া—এটাই তাদের প্রত্যাশা।