Dhaka ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংর্বশেষ সংবাদ:
রায়গঞ্জ উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে মো. আবু হানিফ খান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. ওমর ফারুক খান জুবায়ের রায়গঞ্জে কছিম উদ্দিন হত্যা: দীর্ঘ তদন্তে বেরিয়ে এল রহস্য, গ্রেপ্তার ২ রায়গঞ্জে সংখ্যালঘু গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ, অভিযুক্ত গরু ব্যবসায়ী রায়গঞ্জের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানালেন হাফিজুর রহমান রায়গঞ্জে ভিপি আয়নুল হক এমপি প্রমীলা ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন তাড়াশে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে ১ হাজার পিছ শাড়ি বিতরণ করলেন জহুরুল ইসলাম আকন্দ রায়গঞ্জে ৪০০ গ্যাস সিলিন্ডার লুট, বগুড়ায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার ৩ রায়গঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত, গল্পবলা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার রায়গঞ্জে উপজেলা জেন্ডার ইকুয়ালিটি ফোরাম (GEF)-এর সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের ত্রৈমাসিক অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে’—অব্যাহতি চেয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা আব্দুল লতিফের আকুতি

হাজিরা দিয়ে উধাও’—পারকোদলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে ঘিরে নানা অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:২৯:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৭৭ Time View

রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার পারকোদলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আব্বাস আলীর বিরুদ্ধে নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকা এবং দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওই শিক্ষক দাবি করেছেন, তিনি ছুটি নিয়েই বিদ্যালয় থেকে বের হয়েছেন।

স্থানীয় অভিভাবক ও বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের অভিযোগ, সহকারী শিক্ষক মো. আব্বাস আলী নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না। অনেক সময় বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার পর নিজের ইচ্ছেমতো বিদ্যালয় ত্যাগ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ের বাইরে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করেন বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শিক্ষক ও অভিভাবক।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিউল্লাহ শফিক বলেন, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সহকারী শিক্ষক মো. আব্বাস আলী ছুটির কথা জানান। তবে ওইদিন ছুটি দেওয়া সম্ভব নয় বলে তাকে জানানো হয়েছিল। এরপরও তিনি বিদ্যালয় ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ করেন প্রধান শিক্ষক। এ সময় তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণেরও অভিযোগ করেন তিনি। পরে কাউকে না জানিয়ে ওই শিক্ষক বিদ্যালয় থেকে চলে যান বলেও জানান প্রধান শিক্ষক।

বিদ্যালয়ের কয়েকজন সহকারী শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, ওই শিক্ষক অনেক সময় নিজের ইচ্ছেমতো বিদ্যালয়ে আসেন। হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে আবার ইচ্ছেমতো চলে যান। এতে বিদ্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পাঠদানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

অভিভাবক রুবেল উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করা জরুরি। কোনো শিক্ষক নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি হয়। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী শিক্ষক মো. আব্বাস আলী বলেন, ‘আমি ছুটি নিয়েই বিদ্যালয় থেকে বের হয়েছি। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। আমি ওই শিক্ষককে ফোন করে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করেছি। তবে এখনো পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। বিষয়টি দেখে প্রয়োজনীয় অফিসিয়াল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘আমি বিষয়টি এইমাত্র জানতে পেরেছি। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এদিকে, বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল। তাদের দাবি, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করতে হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

রায়গঞ্জ উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে মো. আবু হানিফ খান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. ওমর ফারুক খান জুবায়ের

হাজিরা দিয়ে উধাও’—পারকোদলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে ঘিরে নানা অভিযোগ

Update Time : ০৪:২৯:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার পারকোদলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আব্বাস আলীর বিরুদ্ধে নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকা এবং দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওই শিক্ষক দাবি করেছেন, তিনি ছুটি নিয়েই বিদ্যালয় থেকে বের হয়েছেন।

স্থানীয় অভিভাবক ও বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের অভিযোগ, সহকারী শিক্ষক মো. আব্বাস আলী নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না। অনেক সময় বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার পর নিজের ইচ্ছেমতো বিদ্যালয় ত্যাগ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ের বাইরে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করেন বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শিক্ষক ও অভিভাবক।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিউল্লাহ শফিক বলেন, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সহকারী শিক্ষক মো. আব্বাস আলী ছুটির কথা জানান। তবে ওইদিন ছুটি দেওয়া সম্ভব নয় বলে তাকে জানানো হয়েছিল। এরপরও তিনি বিদ্যালয় ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ করেন প্রধান শিক্ষক। এ সময় তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণেরও অভিযোগ করেন তিনি। পরে কাউকে না জানিয়ে ওই শিক্ষক বিদ্যালয় থেকে চলে যান বলেও জানান প্রধান শিক্ষক।

বিদ্যালয়ের কয়েকজন সহকারী শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, ওই শিক্ষক অনেক সময় নিজের ইচ্ছেমতো বিদ্যালয়ে আসেন। হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে আবার ইচ্ছেমতো চলে যান। এতে বিদ্যালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পাঠদানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

অভিভাবক রুবেল উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করা জরুরি। কোনো শিক্ষক নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি হয়। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী শিক্ষক মো. আব্বাস আলী বলেন, ‘আমি ছুটি নিয়েই বিদ্যালয় থেকে বের হয়েছি। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। আমি ওই শিক্ষককে ফোন করে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করেছি। তবে এখনো পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। বিষয়টি দেখে প্রয়োজনীয় অফিসিয়াল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘আমি বিষয়টি এইমাত্র জানতে পেরেছি। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এদিকে, বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল। তাদের দাবি, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ে নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করতে হবে।