Dhaka ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংর্বশেষ সংবাদ:
রায়গঞ্জ উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে মো. আবু হানিফ খান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. ওমর ফারুক খান জুবায়ের রায়গঞ্জে কছিম উদ্দিন হত্যা: দীর্ঘ তদন্তে বেরিয়ে এল রহস্য, গ্রেপ্তার ২ রায়গঞ্জে সংখ্যালঘু গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ, অভিযুক্ত গরু ব্যবসায়ী রায়গঞ্জের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানালেন হাফিজুর রহমান রায়গঞ্জে ভিপি আয়নুল হক এমপি প্রমীলা ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন তাড়াশে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে ১ হাজার পিছ শাড়ি বিতরণ করলেন জহুরুল ইসলাম আকন্দ রায়গঞ্জে ৪০০ গ্যাস সিলিন্ডার লুট, বগুড়ায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার ৩ রায়গঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত, গল্পবলা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার রায়গঞ্জে উপজেলা জেন্ডার ইকুয়ালিটি ফোরাম (GEF)-এর সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের ত্রৈমাসিক অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে’—অব্যাহতি চেয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা আব্দুল লতিফের আকুতি

ভুয়া টেন্ডার দেখিয়ে কোটি টাকার গাছ বিক্রির অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:১৩:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
  • ১০৮ Time View

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে সামাজিক বনায়নের গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে ভুয়া টেন্ডারের চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। কোটি টাকা মূল্যের ৮৫৫টি ইউক্যালিপটাস গাছ কাটার এই মহাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা জামায়াতের আমির আবু বকর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যে ঘটনাটি সরেজমিনে তদন্ত শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন।

 

জানা গেছে, ১নং কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের পাশে সামাজিক বনায়নের আওতায় রোপণকৃত এসব গাছ কাটা হয়েছে। ভুয়া সমবায় সমিতি ও গোপন যোগসাজশে মনগড়া টেন্ডার দেখিয়ে এই গাছ কর্তন করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব গাছের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা হলেও মাত্র ৩৩ লাখ টাকায় বিক্রি দেখানো হয়েছে, যা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুর ১১টায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ করে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন সোহেলকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটি অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিকসহ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ করে। এ সময় অভিযোগকারী দুই ব্যক্তির বক্তব্যও শোনা হয়।

 

তদন্তকালে দরপত্র সংক্রান্ত গুরুতর অসঙ্গতির তথ্য বেরিয়ে আসে। কাগজপত্রে পাঁচজন দরদাতার অংশগ্রহণ দেখানো হলেও তালিকার ৩ থেকে ৫ নম্বরে থাকা মেসার্স অওজা ট্রেডার্স, মেসার্স আতোয়ার ট্রেডার্স ও মেসার্স ইমি ট্রেডার্সের কর্ণধাররা তদন্ত কমিটির কাছে হাজির হয়ে দাবি করেন, তারা কেউই উক্ত দরপত্রে অংশ নেননি। বিষয়টি তারা লিখিত ও মৌখিকভাবে তদন্ত কমিটিকে অবহিত করেন। এই তিনটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নাম টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করেই অনিয়মের পথ প্রশস্ত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত সময়ের মধ্যে সঠিক তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

 

অন্যদিকে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক গত ১৭ নভেম্বর ২০২৫ এক প্রতিবাদী বিবৃতিতে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেন। তিনি জানান, গাছ বিক্রয়ের ক্ষেত্রে যথাযথভাবে দরপত্র আহ্বান, দরপত্র যাচাই-বাছাই এবং সর্বোচ্চ দরদাতার পক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহণসহ সমস্ত কার্যক্রম স্বচ্ছতা, নিয়মনীতি ও প্রশাসনিক বিধান মেনে সম্পন্ন করা হয়েছে।

 

তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা কৃষি অফিসার সাজ্জাদ হোসেন সোহেল জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সকল সদস্যদের নিয়ে সরেজমিনে তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে, উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আমরা তিনটি প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য নিয়েছি যারা দরপত্রে অংশ না নেওয়ার দাবি করেছেন। যথা সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

এদিকে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে। জনমনে বিশ্বস্ততা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

রায়গঞ্জ উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে মো. আবু হানিফ খান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. ওমর ফারুক খান জুবায়ের

ভুয়া টেন্ডার দেখিয়ে কোটি টাকার গাছ বিক্রির অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে

Update Time : ০১:১৩:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে সামাজিক বনায়নের গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে ভুয়া টেন্ডারের চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। কোটি টাকা মূল্যের ৮৫৫টি ইউক্যালিপটাস গাছ কাটার এই মহাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা জামায়াতের আমির আবু বকর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যে ঘটনাটি সরেজমিনে তদন্ত শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন।

 

জানা গেছে, ১নং কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের পাশে সামাজিক বনায়নের আওতায় রোপণকৃত এসব গাছ কাটা হয়েছে। ভুয়া সমবায় সমিতি ও গোপন যোগসাজশে মনগড়া টেন্ডার দেখিয়ে এই গাছ কর্তন করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব গাছের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা হলেও মাত্র ৩৩ লাখ টাকায় বিক্রি দেখানো হয়েছে, যা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুর ১১টায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ করে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন সোহেলকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটি অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিকসহ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ করে। এ সময় অভিযোগকারী দুই ব্যক্তির বক্তব্যও শোনা হয়।

 

তদন্তকালে দরপত্র সংক্রান্ত গুরুতর অসঙ্গতির তথ্য বেরিয়ে আসে। কাগজপত্রে পাঁচজন দরদাতার অংশগ্রহণ দেখানো হলেও তালিকার ৩ থেকে ৫ নম্বরে থাকা মেসার্স অওজা ট্রেডার্স, মেসার্স আতোয়ার ট্রেডার্স ও মেসার্স ইমি ট্রেডার্সের কর্ণধাররা তদন্ত কমিটির কাছে হাজির হয়ে দাবি করেন, তারা কেউই উক্ত দরপত্রে অংশ নেননি। বিষয়টি তারা লিখিত ও মৌখিকভাবে তদন্ত কমিটিকে অবহিত করেন। এই তিনটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নাম টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করেই অনিয়মের পথ প্রশস্ত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত সময়ের মধ্যে সঠিক তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

 

অন্যদিকে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক গত ১৭ নভেম্বর ২০২৫ এক প্রতিবাদী বিবৃতিতে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেন। তিনি জানান, গাছ বিক্রয়ের ক্ষেত্রে যথাযথভাবে দরপত্র আহ্বান, দরপত্র যাচাই-বাছাই এবং সর্বোচ্চ দরদাতার পক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহণসহ সমস্ত কার্যক্রম স্বচ্ছতা, নিয়মনীতি ও প্রশাসনিক বিধান মেনে সম্পন্ন করা হয়েছে।

 

তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা কৃষি অফিসার সাজ্জাদ হোসেন সোহেল জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সকল সদস্যদের নিয়ে সরেজমিনে তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে, উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আমরা তিনটি প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য নিয়েছি যারা দরপত্রে অংশ না নেওয়ার দাবি করেছেন। যথা সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

এদিকে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে। জনমনে বিশ্বস্ততা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।