Dhaka ১২:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংর্বশেষ সংবাদ:
রায়গঞ্জে টোকাই সেজে ঘোরাফেরা, স্থানীয়দের হাতে আটক যুবক রায়গঞ্জে ইকরা শিক্ষা পরিবারের বৃত্তি পরীক্ষার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত রায়গঞ্জে কৃষি জমির ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ রায়গঞ্জে গরু চোরদের রুখতে বাঁশের গেট, পাহারায় গ্রামবাসীসহ থানা পুলিশ রায়গঞ্জে সড়ক সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মানববন্ধন রায়গঞ্জের নিমগাছীতে খানাখন্দ ও কর্দমাক্ত রাস্তা সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন সংবাদ প্রকাশের পর ফুলজোড় নদীর কচুড়িপানা অপসারণ শুরু রায়গঞ্জে চাঁদা না দেওয়ায় বালু ব্যবসায়ীকে অপহরণ, যুবদল নেতাসহ গ্রেপ্তার ২ রায়গঞ্জে বোরো মৌসুমে সরকারি মূল্যে ধান সংগ্রহের উদ্বোধন রায়গঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় মানসিক প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু

রায়গঞ্জে করতোয়া নদীর উপর বাঁশের সাঁকোই ভরসা, ১০ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:০৮:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • ৬৩ Time View

রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার করতোয়া নদীর উপর নির্মিত একটি বাঁশের সাঁকোই এখন প্রায় ৮ থেকে ১০টি গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সড়াইদহ এলাকাসহ আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে এ সাঁকো নির্মাণ করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়াইদহ, লক্ষিকোলা, খোকশা হাট, পাইকড়া, শ্যামনাই, ভুইয়াগাঁতী এবং পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করেন। কৃষক, শিক্ষার্থী, শ্রমিকসহ নানা পেশার মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে।

বর্ষা মৌসুমে সাঁকোটি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। তখন ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। অবাক করার বিষয় হলো, সাঁকোটির পাশ দিয়েই রয়েছে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক এবং এর একটি বাইপাস সড়ক। এত গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে অবস্থান করেও স্বাধীনতার ৫২ বছর পেরিয়ে গেলেও এখানে কোনো স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মো. আল আমিন বলেন, “এই বাঁশের সাঁকোই আমাদের একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়। বিশেষ করে বাজারে পণ্য আনা-নেওয়ার সময় খুবই কষ্ট হয়। একটি স্থায়ী ব্রিজ হলে আমাদের ভোগান্তি অনেকটাই কমে যাবে।”

আশি ঊর্ধ্ব বৃদ্ধ মো. শাহজাহান শেখ ও আবুল হোসেন বলেন, “আমাদের বয়স হয়েছে, তবুও এই নড়বড়ে সাঁকো দিয়েই চলাচল করতে হয়। অনেক সময় পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। এত বছরেও এখানে একটা ব্রিজ হলো না, এটা খুবই দুঃখজনক।”

পথচারী মোছা. রুবিয়া নামের এক গৃহিণী বলেন, “বাচ্চাদের নিয়ে এই সাঁকো পার হওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বর্ষার সময় তো আরও ভয় লাগে। আমরা খুব কষ্টে আছি, দ্রুত একটা নিরাপদ ব্রিজ দরকার।”

স্কুল শিক্ষার্থীরা জানায়, “প্রতিদিন স্কুলে যেতে এই সাঁকো পার হতে হয়। অনেক সময় ভয়ে থাকি, পা পিছলে পড়ে যেতে পারি। বৃষ্টি হলে সাঁকো খুব পিচ্ছিল হয়ে যায়। আমরা চাই এখানে দ্রুত একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণ করা হোক।”

স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম ও মঞ্জিল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবছর জনপ্রতিনিধিরা এসে সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবে রূপ নেয় না। ফলে বছরের পর বছর ধরে তারা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

এলাকাবাসী দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হকের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। তারা মনে করেন, একটি ব্রিজ নির্মাণ হলে এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে এবং মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।

রায়গঞ্জ উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

রায়গঞ্জে টোকাই সেজে ঘোরাফেরা, স্থানীয়দের হাতে আটক যুবক

রায়গঞ্জে করতোয়া নদীর উপর বাঁশের সাঁকোই ভরসা, ১০ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ

Update Time : ০৩:০৮:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার করতোয়া নদীর উপর নির্মিত একটি বাঁশের সাঁকোই এখন প্রায় ৮ থেকে ১০টি গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সড়াইদহ এলাকাসহ আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে এ সাঁকো নির্মাণ করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়াইদহ, লক্ষিকোলা, খোকশা হাট, পাইকড়া, শ্যামনাই, ভুইয়াগাঁতী এবং পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করেন। কৃষক, শিক্ষার্থী, শ্রমিকসহ নানা পেশার মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে।

বর্ষা মৌসুমে সাঁকোটি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। তখন ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। অবাক করার বিষয় হলো, সাঁকোটির পাশ দিয়েই রয়েছে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক এবং এর একটি বাইপাস সড়ক। এত গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে অবস্থান করেও স্বাধীনতার ৫২ বছর পেরিয়ে গেলেও এখানে কোনো স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মো. আল আমিন বলেন, “এই বাঁশের সাঁকোই আমাদের একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়। বিশেষ করে বাজারে পণ্য আনা-নেওয়ার সময় খুবই কষ্ট হয়। একটি স্থায়ী ব্রিজ হলে আমাদের ভোগান্তি অনেকটাই কমে যাবে।”

আশি ঊর্ধ্ব বৃদ্ধ মো. শাহজাহান শেখ ও আবুল হোসেন বলেন, “আমাদের বয়স হয়েছে, তবুও এই নড়বড়ে সাঁকো দিয়েই চলাচল করতে হয়। অনেক সময় পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। এত বছরেও এখানে একটা ব্রিজ হলো না, এটা খুবই দুঃখজনক।”

পথচারী মোছা. রুবিয়া নামের এক গৃহিণী বলেন, “বাচ্চাদের নিয়ে এই সাঁকো পার হওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বর্ষার সময় তো আরও ভয় লাগে। আমরা খুব কষ্টে আছি, দ্রুত একটা নিরাপদ ব্রিজ দরকার।”

স্কুল শিক্ষার্থীরা জানায়, “প্রতিদিন স্কুলে যেতে এই সাঁকো পার হতে হয়। অনেক সময় ভয়ে থাকি, পা পিছলে পড়ে যেতে পারি। বৃষ্টি হলে সাঁকো খুব পিচ্ছিল হয়ে যায়। আমরা চাই এখানে দ্রুত একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণ করা হোক।”

স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম ও মঞ্জিল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবছর জনপ্রতিনিধিরা এসে সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবে রূপ নেয় না। ফলে বছরের পর বছর ধরে তারা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

এলাকাবাসী দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হকের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। তারা মনে করেন, একটি ব্রিজ নির্মাণ হলে এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে এবং মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।

রায়গঞ্জ উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে।”