Dhaka ১০:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংর্বশেষ সংবাদ:
রায়গঞ্জে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিসহ পাঁচজন গ্রেফতার রায়গঞ্জের ভুইয়াগাঁতীতে ১০ মিনিটের অভিযানে উচ্ছেদ অবৈধ দোকান, যানজট নিরসন রায়গঞ্জে ‘বিনা সুদে পুঁজি চাই’ ব্যানার টাঙিয়ে মানবসেবায় শফিকুল, চান মানবিক সহায়তা রায়গঞ্জে আলোচিত অটোমিশু ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪ রায়গঞ্জে ধর্ষণের আলামত নষ্টের অভিযোগ অস্বীকার করে নার্সের সংবাদ সম্মেলন রায়গঞ্জে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী ধর্ষণের বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ রায়গঞ্জে কুখ্যাত ডাকাতখ্যাত ব্যক্তিসহ ছয়জন গ্রেপ্তার রায়গঞ্জে প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, বিচার না পেয়ে ঘুরছেন স্বজনেরা রায়গঞ্জে শিক্ষার্থী নিখোঁজের ঘটনায় শিক্ষক গ্রেপ্তার রায়গঞ্জে জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত

রায়গঞ্জে ‘বিনা সুদে পুঁজি চাই’ ব্যানার টাঙিয়ে মানবসেবায় শফিকুল, চান মানবিক সহায়তা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৪৮:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
  • ২৩ Time View
দোকানের সামনে টাঙানো একটি ব্যানার সহজেই পথচারীদের দৃষ্টি কাড়ে। সেখানে লেখা—‘বিনা সুদে পুঁজি চাই’। ব্যানারটি দেখে অনেকেই থমকে দাঁড়ান, জানতে চান এর পেছনের গল্প। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এটি শুধু একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর আর্থিক সংকটের কথা নয়; বরং সংগ্রাম, মানবিকতা ও সমাজসেবার এক অনন্য উদাহরণ।
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ভুইয়াগাতি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শরবতের ব্যবসা করেন মো. শফিকুল ইসলাম। ব্যবসা পরিচালনার জন্য নিজের কোনো পুঁজি না থাকায় উচ্চ সুদে টাকা ধার নিয়ে কাজ শুরু করতে হয়েছে তাঁকে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৭০ টাকা সুদ পরিশোধ করতে হয়। এতে সংসার চালানো এবং ব্যবসা টিকিয়ে রাখা দুটোই কঠিন হয়ে পড়েছে।
তবে নিজের কষ্টের মধ্যেও মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলেননি শফিকুল। প্রতিদিন দোকানে আসা পথচারী, শ্রমজীবী ও অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে শরবতের ব্যবস্থা করেন তিনি। গরমে ক্লান্ত মানুষের হাতে এক গ্লাস ঠান্ডা শরবত তুলে দিতে পারলেই যেন তার মুখে ফুটে ওঠে তৃপ্তির হাসি।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শরবত বিক্রির পাশাপাশি কয়েকজন পথচারীকে বিনামূল্যে শরবত পান করাচ্ছেন শফিকুল। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এই মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন।
শফিকুল ইসলাম বলেন, “নিজের কোনো পুঁজি ছিল না। তাই বাধ্য হয়ে সুদে টাকা এনে ব্যবসা শুরু করেছি। প্রতিদিন সুদের টাকা পরিশোধ করতে হয়। অনেক সময় সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়ে। তারপরও মানুষের জন্য কিছু করতে পারলে ভালো লাগে। কেউ শরবত খেয়ে দোয়া করলে মনে হয় কষ্টগুলো সার্থক।”
তিনি আরও বলেন, “আমার স্বপ্ন সুদের বোঝা থেকে মুক্ত হয়ে ব্যবসাটাকে আরও বড় করা। যদি কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সরকারি সংস্থা বিনা সুদে কিছু পুঁজি দিয়ে সহযোগিতা করত, তাহলে ব্যবসা সম্প্রসারণের পাশাপাশি আরও বেশি মানুষের সেবা করতে পারতাম।”
শফিকুলের এই কাজে সহযোগিতা করেন তাঁর একমাত্র ছেলে আরিফুল ইসলাম। তিনি একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার ফাঁকে বাবার সঙ্গে দোকানে কাজ করেন এবং শরবত বিতরণে সহায়তা করেন।
আরিফুল ইসলাম বলেন, “বাবাকে সব সময় মানুষের জন্য কাজ করতে দেখেছি। সংসারে কষ্ট থাকলেও তিনি কখনো কাউকে ফিরিয়ে দেন না। মানুষের উপকার করতে পারলেই তিনি খুশি হন। আমি চাই, বাবার স্বপ্ন পূরণ হোক এবং তিনি আরও বড় পরিসরে মানুষের সেবা করতে পারেন।”
শুধু মানবসেবাই নয়, পরিবেশ রক্ষাতেও রয়েছে শফিকুলের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুইয়াগাতি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নিজ উদ্যোগে প্রায় শতাধিক গাছ রোপণ করেছেন তিনি। নিয়মিত সেসব গাছের পরিচর্যাও করেন। তার এই উদ্যোগে এলাকাটি আরও সবুজ ও ছায়াময় হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী মো. একরামুল হক ও মো. শাকিল আহমেদ বলেন, “শফিকুল ভাই সুদের ঋণের চাপ নিয়েও মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিদিন সুদের টাকা পরিশোধ করার পরও তিনি পথচারী ও অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে শরবতের ব্যবস্থা করেন। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগানোর মতো সামাজিক কাজও করছেন। তার মতো একজন মানবিক মানুষকে সহযোগিতা করা সমাজের দায়িত্ব। সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে বিনা সুদে পুঁজির ব্যবস্থা করা গেলে তিনি সুদের চাপ থেকে মুক্ত হয়ে আরও স্বাবলম্বী হতে পারবেন এবং মানবিক কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত করতে পারবেন।”
স্থানীয়দের মতে, নিজের কষ্টকে আড়াল করে অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর যে চেষ্টা শফিকুল করে চলেছেন, তা সমাজে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

রায়গঞ্জে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিসহ পাঁচজন গ্রেফতার

রায়গঞ্জে ‘বিনা সুদে পুঁজি চাই’ ব্যানার টাঙিয়ে মানবসেবায় শফিকুল, চান মানবিক সহায়তা

Update Time : ১১:৪৮:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
দোকানের সামনে টাঙানো একটি ব্যানার সহজেই পথচারীদের দৃষ্টি কাড়ে। সেখানে লেখা—‘বিনা সুদে পুঁজি চাই’। ব্যানারটি দেখে অনেকেই থমকে দাঁড়ান, জানতে চান এর পেছনের গল্প। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এটি শুধু একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর আর্থিক সংকটের কথা নয়; বরং সংগ্রাম, মানবিকতা ও সমাজসেবার এক অনন্য উদাহরণ।
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ভুইয়াগাতি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় শরবতের ব্যবসা করেন মো. শফিকুল ইসলাম। ব্যবসা পরিচালনার জন্য নিজের কোনো পুঁজি না থাকায় উচ্চ সুদে টাকা ধার নিয়ে কাজ শুরু করতে হয়েছে তাঁকে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৭০ টাকা সুদ পরিশোধ করতে হয়। এতে সংসার চালানো এবং ব্যবসা টিকিয়ে রাখা দুটোই কঠিন হয়ে পড়েছে।
তবে নিজের কষ্টের মধ্যেও মানুষের জন্য কিছু করার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলেননি শফিকুল। প্রতিদিন দোকানে আসা পথচারী, শ্রমজীবী ও অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে শরবতের ব্যবস্থা করেন তিনি। গরমে ক্লান্ত মানুষের হাতে এক গ্লাস ঠান্ডা শরবত তুলে দিতে পারলেই যেন তার মুখে ফুটে ওঠে তৃপ্তির হাসি।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শরবত বিক্রির পাশাপাশি কয়েকজন পথচারীকে বিনামূল্যে শরবত পান করাচ্ছেন শফিকুল। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এই মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন।
শফিকুল ইসলাম বলেন, “নিজের কোনো পুঁজি ছিল না। তাই বাধ্য হয়ে সুদে টাকা এনে ব্যবসা শুরু করেছি। প্রতিদিন সুদের টাকা পরিশোধ করতে হয়। অনেক সময় সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়ে। তারপরও মানুষের জন্য কিছু করতে পারলে ভালো লাগে। কেউ শরবত খেয়ে দোয়া করলে মনে হয় কষ্টগুলো সার্থক।”
তিনি আরও বলেন, “আমার স্বপ্ন সুদের বোঝা থেকে মুক্ত হয়ে ব্যবসাটাকে আরও বড় করা। যদি কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সরকারি সংস্থা বিনা সুদে কিছু পুঁজি দিয়ে সহযোগিতা করত, তাহলে ব্যবসা সম্প্রসারণের পাশাপাশি আরও বেশি মানুষের সেবা করতে পারতাম।”
শফিকুলের এই কাজে সহযোগিতা করেন তাঁর একমাত্র ছেলে আরিফুল ইসলাম। তিনি একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার ফাঁকে বাবার সঙ্গে দোকানে কাজ করেন এবং শরবত বিতরণে সহায়তা করেন।
আরিফুল ইসলাম বলেন, “বাবাকে সব সময় মানুষের জন্য কাজ করতে দেখেছি। সংসারে কষ্ট থাকলেও তিনি কখনো কাউকে ফিরিয়ে দেন না। মানুষের উপকার করতে পারলেই তিনি খুশি হন। আমি চাই, বাবার স্বপ্ন পূরণ হোক এবং তিনি আরও বড় পরিসরে মানুষের সেবা করতে পারেন।”
শুধু মানবসেবাই নয়, পরিবেশ রক্ষাতেও রয়েছে শফিকুলের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুইয়াগাতি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নিজ উদ্যোগে প্রায় শতাধিক গাছ রোপণ করেছেন তিনি। নিয়মিত সেসব গাছের পরিচর্যাও করেন। তার এই উদ্যোগে এলাকাটি আরও সবুজ ও ছায়াময় হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী মো. একরামুল হক ও মো. শাকিল আহমেদ বলেন, “শফিকুল ভাই সুদের ঋণের চাপ নিয়েও মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিদিন সুদের টাকা পরিশোধ করার পরও তিনি পথচারী ও অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে শরবতের ব্যবস্থা করেন। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগানোর মতো সামাজিক কাজও করছেন। তার মতো একজন মানবিক মানুষকে সহযোগিতা করা সমাজের দায়িত্ব। সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে বিনা সুদে পুঁজির ব্যবস্থা করা গেলে তিনি সুদের চাপ থেকে মুক্ত হয়ে আরও স্বাবলম্বী হতে পারবেন এবং মানবিক কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত করতে পারবেন।”
স্থানীয়দের মতে, নিজের কষ্টকে আড়াল করে অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর যে চেষ্টা শফিকুল করে চলেছেন, তা সমাজে মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।