Dhaka ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংর্বশেষ সংবাদ:
রায়গঞ্জ উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে মো. আবু হানিফ খান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. ওমর ফারুক খান জুবায়ের রায়গঞ্জে কছিম উদ্দিন হত্যা: দীর্ঘ তদন্তে বেরিয়ে এল রহস্য, গ্রেপ্তার ২ রায়গঞ্জে সংখ্যালঘু গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ, অভিযুক্ত গরু ব্যবসায়ী রায়গঞ্জের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানালেন হাফিজুর রহমান রায়গঞ্জে ভিপি আয়নুল হক এমপি প্রমীলা ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন তাড়াশে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে ১ হাজার পিছ শাড়ি বিতরণ করলেন জহুরুল ইসলাম আকন্দ রায়গঞ্জে ৪০০ গ্যাস সিলিন্ডার লুট, বগুড়ায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার ৩ রায়গঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত, গল্পবলা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার রায়গঞ্জে উপজেলা জেন্ডার ইকুয়ালিটি ফোরাম (GEF)-এর সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের ত্রৈমাসিক অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে’—অব্যাহতি চেয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা আব্দুল লতিফের আকুতি

রায়গঞ্জে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যের ঘোড়ার গাড়ি, স্মৃতিতে বেঁচে আছে এক সময়ের বাহন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৫১:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
  • ৭৫ Time View

রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:

এক সময় রায়গঞ্জ উপজেলার গ্রামীণ জনপদের অন্যতম পরিচিত বাহন ছিল ঘোড়ার গাড়ি। মানুষের যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং নানা প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহৃত হতো এই ঐতিহ্যবাহী যান। তবে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যানবাহনের প্রসার, চারণভূমির সংকট এবং ঘোড়া পালনের ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের অংশ ঘোড়ার গাড়ি। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হাতে গোনা কয়েকটি ঘোড়ার গাড়ি ছাড়া তেমন দেখা মেলে না এক সময়ের জনপ্রিয় এই বাহনের।

স্থানীয় প্রবীণরা জানান, কয়েক দশক আগেও উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ও গ্রামীণ পথে ঘোড়ার গাড়ির ছিল ব্যাপক চলাচল। কৃষিপণ্য পরিবহন, হাট-বাজারে যাতায়াত এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে ঘোড়ার গাড়ির ব্যবহার ছিল সাধারণ ঘটনা। অনেক পরিবার এই পেশার ওপর নির্ভর করেই জীবিকা নির্বাহ করত এবং আর্থিকভাবে স্বচ্ছলতা অর্জন করেছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অটোরিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল, ট্রাক্টর ও অন্যান্য ইঞ্জিনচালিত যানবাহনের ব্যবহার বাড়তে থাকে। ফলে দ্রুত কমে যায় ঘোড়ার গাড়ির প্রয়োজনীয়তা। আধুনিক যানবাহনের তুলনায় ধীরগতি ও রক্ষণাবেক্ষণের বাড়তি খরচের কারণে অনেক মালিক ঘোড়ার গাড়ি চালানো বন্ধ করে দেন।

উপজেলার কয়েকজন ঘোড়ার গাড়ির মালিক জানান, বর্তমানে ঘোড়া পালন আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল। পর্যাপ্ত ঘাস ও চারণভূমির অভাব, খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি এবং আয় কমে যাওয়ায় এ পেশায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে নতুন প্রজন্মও এ পেশার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

রায়গঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইলিয়াস হাসান শেখ বলেন, “ঘোড়ার গাড়ি আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সময়ের পরিবর্তনে এর ব্যবহার কমে গেলেও এটি আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে রয়ে গেছে। এ ধরনের ঐতিহ্য সংরক্ষণে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।”

স্থানীয় সংস্কৃতিপ্রেমীদের মতে, ঘোড়ার গাড়ি শুধু একটি বাহন নয়, এটি গ্রামীণ জীবনধারা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। তাই ঐতিহ্যের এই নিদর্শন সংরক্ষণে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন।

এক সময় যে ঘোড়ার গাড়ির টুংটাং শব্দে মুখর থাকত রায়গঞ্জের গ্রামীণ জনপদ, আজ তা কেবল স্মৃতির পাতায় স্থান করে নিয়েছে। আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যেতে বসা এই ঐতিহ্যবাহী বাহন এখন অতীতের গৌরবগাথার নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

রায়গঞ্জ উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে মো. আবু হানিফ খান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. ওমর ফারুক খান জুবায়ের

রায়গঞ্জে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যের ঘোড়ার গাড়ি, স্মৃতিতে বেঁচে আছে এক সময়ের বাহন

Update Time : ০৩:৫১:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:

এক সময় রায়গঞ্জ উপজেলার গ্রামীণ জনপদের অন্যতম পরিচিত বাহন ছিল ঘোড়ার গাড়ি। মানুষের যাতায়াত, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং নানা প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহৃত হতো এই ঐতিহ্যবাহী যান। তবে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যানবাহনের প্রসার, চারণভূমির সংকট এবং ঘোড়া পালনের ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের অংশ ঘোড়ার গাড়ি। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হাতে গোনা কয়েকটি ঘোড়ার গাড়ি ছাড়া তেমন দেখা মেলে না এক সময়ের জনপ্রিয় এই বাহনের।

স্থানীয় প্রবীণরা জানান, কয়েক দশক আগেও উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ও গ্রামীণ পথে ঘোড়ার গাড়ির ছিল ব্যাপক চলাচল। কৃষিপণ্য পরিবহন, হাট-বাজারে যাতায়াত এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে ঘোড়ার গাড়ির ব্যবহার ছিল সাধারণ ঘটনা। অনেক পরিবার এই পেশার ওপর নির্ভর করেই জীবিকা নির্বাহ করত এবং আর্থিকভাবে স্বচ্ছলতা অর্জন করেছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অটোরিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল, ট্রাক্টর ও অন্যান্য ইঞ্জিনচালিত যানবাহনের ব্যবহার বাড়তে থাকে। ফলে দ্রুত কমে যায় ঘোড়ার গাড়ির প্রয়োজনীয়তা। আধুনিক যানবাহনের তুলনায় ধীরগতি ও রক্ষণাবেক্ষণের বাড়তি খরচের কারণে অনেক মালিক ঘোড়ার গাড়ি চালানো বন্ধ করে দেন।

উপজেলার কয়েকজন ঘোড়ার গাড়ির মালিক জানান, বর্তমানে ঘোড়া পালন আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল। পর্যাপ্ত ঘাস ও চারণভূমির অভাব, খাদ্যের মূল্য বৃদ্ধি এবং আয় কমে যাওয়ায় এ পেশায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে নতুন প্রজন্মও এ পেশার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

রায়গঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইলিয়াস হাসান শেখ বলেন, “ঘোড়ার গাড়ি আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সময়ের পরিবর্তনে এর ব্যবহার কমে গেলেও এটি আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে রয়ে গেছে। এ ধরনের ঐতিহ্য সংরক্ষণে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।”

স্থানীয় সংস্কৃতিপ্রেমীদের মতে, ঘোড়ার গাড়ি শুধু একটি বাহন নয়, এটি গ্রামীণ জীবনধারা, সংস্কৃতি ও ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। তাই ঐতিহ্যের এই নিদর্শন সংরক্ষণে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন।

এক সময় যে ঘোড়ার গাড়ির টুংটাং শব্দে মুখর থাকত রায়গঞ্জের গ্রামীণ জনপদ, আজ তা কেবল স্মৃতির পাতায় স্থান করে নিয়েছে। আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যেতে বসা এই ঐতিহ্যবাহী বাহন এখন অতীতের গৌরবগাথার নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।