
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আন্নিশা মুনিয়ার আত্মহত্যার ঘটনার কয়েকদিন পরও কাটেনি রহস্য। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া অন্তিম চিরকুট ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে, আর একই সঙ্গে অজানা আতঙ্কে ভুগছে তার পরিবার।
গত শুক্রবার (১ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়নের চান্দাইকোনা পূর্বপাড়া এলাকায় নিজ ঘর থেকে আন্নিশা মুনিয়ার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সে স্থানীয় চান্দাইকোনা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক রইস উদ্দিনের মেয়ে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে একটি অন্তিম চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে, যা বর্তমানে থানার হেফাজতে রয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে সেটির বিষয়বস্তু এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে, এলাকাবাসীর একটি অংশের দাবি—চিরকুটে এমন কিছু তথ্য থাকতে পারে, যা ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে সেটি প্রকাশ না হওয়ায় জনমনে কৌতূহল ও সন্দেহ আরও বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের (ছদ্মনাম) বলেন, “চিরকুট থাকলে সেটার কিছুটা হলেও জানানো দরকার। না হলে মানুষ নানা কথা বলবেই।”
আরেকজন স্থানীয় নারী বলেন, “মেয়েটা কেন এমন করল, এটা জানাটা খুব জরুরি। চিরকুট গোপন রাখলে তো সন্দেহ আরও বাড়ে।”
স্থানীয়রা জানান, অজানা আতঙ্কে নিহতের পরিবারটি এখন চরম মানসিক চাপে রয়েছে। তারা প্রকাশ্যে কথা বলতে চাইছেন না এবং পুরো বিষয়টি নিয়ে নীরবতা পালন করছেন।
তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। চিরকুটের বিষয়টি জানার পরও তারা আইনি পদক্ষেপে এগোচ্ছে না—এ বিষয়টিও এলাকায় নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্নিশা মুনিয়ার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ছড়িয়েছে। কেউ কেউ তার এক সহপাঠীর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এনে দায়ী করার চেষ্টা করছেন। তবে এসব দাবির পক্ষে এখনো কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আহসানুজ্জামান বলেন, “চিরকুটটি গুরুত্বসহকারে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো কিছু প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আমরা সবদিক বিবেচনায় নিয়ে কাজ করছি।”
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। এদিকে, গুজব ও অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।
Reporter Name 


















