Dhaka ০৭:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংর্বশেষ সংবাদ:
রায়গঞ্জে অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় মাথাসহ বুক পিষ্ট, ঘটনাস্থলেই এক ব্যক্তির মৃত্যু রায়গঞ্জে পুলিশ নারী হেল্পডেস্ক ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা রায়গঞ্জে এইচ.জি.বি.এল উচ্চ বিদ্যালয়ের নব গঠিত কমিটির পরিচিতি সভা ও অভিভাবক সমাবেশ রায়গঞ্জে মানবিক সহায়তা পেলেন ৩৮৫ দরিদ্র-অসহায় মানুষ রায়গঞ্জের নিমগাছীতে ট্রাকচাপায় মাছ ব্যবসায়ীর মৃত্যু, চালক পলাতক রায়গঞ্জে দেড়াগাঁতী রুদ্রপুর উচ্চবিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ নলকার উন্নয়নে নতুন প্রত্যয়, চেয়ারম্যান পদে লড়তে চান এস এম রেজাউল করিম ৩০ শতাংশ না দিলে প্রকল্প নয়’—ঘুড়কা ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রায়গঞ্জে কুটির শিল্প ও বাণিজ্য মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন রায়গঞ্জে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে মো. ইলিয়াস নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন

রায়গঞ্জের মেধাবী সূচনা রানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, পড়াশোনার খরচে দুশ্চিন্তা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৪০:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
  • ৭৮ Time View

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়নের সোনাখাড়া গ্রামের বাসিন্দা সত্য কুমার রবিদাসের মেয়ে সূচনা রানী ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি খরচ ও পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া নিয়ে তিনি এবং তার পরিবার দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

সূচনা রানী ২০২৫ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় সোনাখাড়া ইউনিয়নের নিমগাছী ডিগ্রি কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ–৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এর পর থেকেই উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে পরিবারে ভাবনা শুরু হয়। তবে দরিদ্র পরিবারের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ বহন করা সম্ভব নয়।

সূচনা রানীর পরিবার ছোট একটি টিনের ঘরে বসবাস করেন। বাবা সত্য কুমার রবিদাস গ্রাম পুলিশের দায়িত্ব পালন করেন, মা শ্যামলী রানী গৃহিণী। তাঁদের দুই সন্তানদের মধ্যে সূচনা বড়। ছোট ভাই আকাশ কুমার রবিদাস সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে বর্তমানে স্থানীয় একটি সেলুনে কাজ করছেন।

শৈশব থেকেই পড়াশোনায় ভালো ফল করে আসা সূচনা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে জিপিএ–৫ পেয়ে মেধাবৃত্তিও লাভ করেন। পরে উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ–৫ পান। তবে উচ্চমাধ্যমিকে বিজ্ঞান বিভাগে কোচিংয়ের খরচ বহন করতে না পারায় মানবিক বিভাগে ভর্তি হন। কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি সেলাই মেশিনে কাজ করে কিছু আয়ও করেন।

সূচনা রানী বলেন, “আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে বাইরে কোচিং করতে পারিনি। তবে অনলাইনে প্রস্তুতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য পড়াশোনা করেছি। এখন উচ্চশিক্ষা অর্জন করে মানুষের মতো মানুষ হতে চাই। বাবা-মায়ের কষ্ট কিছুটা হলেও কমাতে চাই।”

সূচনা রানীর মা শ্যামলী রানী বলেন, “ছোটবেলা থেকেই মেয়েটি পড়ালেখায় খুব ভালো। আমরা তেমন কিছু দিতে পারিনি, তবু সে সর্বোচ্চ ফলাফল করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়ে আমরা খুশি, কিন্তু খরচ জোগাড় করা নিয়ে চিন্তায় আছি।”

স্থানীয় সমাজকর্মী ও লেখক উজ্জ্বল কুমার মাহাতো বলেন, “সূচনা রানী তার মেধা ও অধ্যাবসায় দিয়ে আবার প্রমাণ করেছেন যে, ইচ্ছা থাকলে অসাধ্যকে সম্ভব করা যায়। আমরা সকলের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, এই মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়াতে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

রায়গঞ্জে অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় মাথাসহ বুক পিষ্ট, ঘটনাস্থলেই এক ব্যক্তির মৃত্যু

রায়গঞ্জের মেধাবী সূচনা রানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, পড়াশোনার খরচে দুশ্চিন্তা

Update Time : ০৭:৪০:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়নের সোনাখাড়া গ্রামের বাসিন্দা সত্য কুমার রবিদাসের মেয়ে সূচনা রানী ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি খরচ ও পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া নিয়ে তিনি এবং তার পরিবার দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

সূচনা রানী ২০২৫ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় সোনাখাড়া ইউনিয়নের নিমগাছী ডিগ্রি কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ–৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এর পর থেকেই উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে পরিবারে ভাবনা শুরু হয়। তবে দরিদ্র পরিবারের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ বহন করা সম্ভব নয়।

সূচনা রানীর পরিবার ছোট একটি টিনের ঘরে বসবাস করেন। বাবা সত্য কুমার রবিদাস গ্রাম পুলিশের দায়িত্ব পালন করেন, মা শ্যামলী রানী গৃহিণী। তাঁদের দুই সন্তানদের মধ্যে সূচনা বড়। ছোট ভাই আকাশ কুমার রবিদাস সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে বর্তমানে স্থানীয় একটি সেলুনে কাজ করছেন।

শৈশব থেকেই পড়াশোনায় ভালো ফল করে আসা সূচনা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে জিপিএ–৫ পেয়ে মেধাবৃত্তিও লাভ করেন। পরে উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ–৫ পান। তবে উচ্চমাধ্যমিকে বিজ্ঞান বিভাগে কোচিংয়ের খরচ বহন করতে না পারায় মানবিক বিভাগে ভর্তি হন। কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি সেলাই মেশিনে কাজ করে কিছু আয়ও করেন।

সূচনা রানী বলেন, “আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে বাইরে কোচিং করতে পারিনি। তবে অনলাইনে প্রস্তুতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য পড়াশোনা করেছি। এখন উচ্চশিক্ষা অর্জন করে মানুষের মতো মানুষ হতে চাই। বাবা-মায়ের কষ্ট কিছুটা হলেও কমাতে চাই।”

সূচনা রানীর মা শ্যামলী রানী বলেন, “ছোটবেলা থেকেই মেয়েটি পড়ালেখায় খুব ভালো। আমরা তেমন কিছু দিতে পারিনি, তবু সে সর্বোচ্চ ফলাফল করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়ে আমরা খুশি, কিন্তু খরচ জোগাড় করা নিয়ে চিন্তায় আছি।”

স্থানীয় সমাজকর্মী ও লেখক উজ্জ্বল কুমার মাহাতো বলেন, “সূচনা রানী তার মেধা ও অধ্যাবসায় দিয়ে আবার প্রমাণ করেছেন যে, ইচ্ছা থাকলে অসাধ্যকে সম্ভব করা যায়। আমরা সকলের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, এই মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়াতে।”