
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় টিসিবির পণ্য না পেয়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন অর্ধশতাধিক সুবিধাভোগী। তারা স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড হাতে নিয়েও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে খালি হাতে ফিরে গেছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে ধামাইনগর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, সুবিধাভোগীরা কার্ড হাতে বসে টিসিবির পণ্যের জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু নির্ধারিত বিক্রয়স্থলে ডিলারের কোনো উপস্থিতি ছিল না। ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমেও কোনো পণ্য রাখা হয়নি।
ভুক্তভোগী মনিরসহ কয়েকজন অভিযোগ করেন, বুধবার পণ্য কিনতে এলে ডিলার জানায় সার্ভারে সমস্যা রয়েছে। ফলে সেদিন পণ্য বিক্রি করা সম্ভব হয়নি এবং পরদিন আসতে বলা হয়। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে এসে তারা দেখেন ডিলার নেই, বরাদ্দ পণ্যও পাওয়া যায়নি।
সুবিধাভোগীরা বলেন, “কার্ড আমাদের কাছে রয়েছে, কিন্তু পণ্য নেই। ডিলারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন সব পণ্য বিক্রি হয়ে গেছে। তাহলে আমাদের জন্য বরাদ্দ পণ্য কোথায় গেল?”
ডিলার প্রতিষ্ঠান মক্কা ট্রেডার্স–এর মালিক বাবুল আক্তার জানান, “সকাল থেকেই পণ্য বিক্রি হওয়ার কথা। আমি একটি নম্বর দিচ্ছি, যোগাযোগ করুন।”
ডিলারের দেওয়া নম্বরে ফোন করলে এক ব্যক্তি নিজেকে তাড়াশ পৌর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আমিরুল পরিচয় দিয়ে জানান, “আমাদের কাছে এখনও ৩০টি কার্ডের পণ্য রয়েছে। লোকজন বেশি হওয়ায় পণ্যগুলো অন্যত্র রাখা হয়েছে। পরে ৩০ জনের মধ্যে বিক্রি করা হবে।” তবে বিক্রয়স্থল থেকে পণ্য অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত গ্রাম পুলিশ শওকাত আলী জানান, ডিলার পণ্য ফুরিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে।
দায়িত্বপ্রাপ্ত তদারকি কর্মকর্তা ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ডিলার কখন এবং কোথায় পণ্য বিক্রি করেন, তা জানা যায় না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী বৃহস্পতিবার বিকেলে তার কার্যালয়ে পাওয়া যাননি। একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোনটি গ্রহণ করেননি।
স্থানীয় সুবিধাভোগীরা অভিযোগ করেছেন, “নির্ধারিত বিক্রয়স্থলে পণ্য না এনে অন্যত্র সরিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রশাসনের পর্যাপ্ত তদারকির অভাবে অনিয়ম হচ্ছে।” তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কার্ডধারীদের মধ্যে পণ্য বিতরণের দাবি জানিয়েছেন।
Reporter Name 


















