Dhaka ১০:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংর্বশেষ সংবাদ:
জমিজমা বিরোধে নিজেদের গ্যাসপাইপ নিজেরাই ভেঙে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর অভিযোগ রায়গঞ্জ উপজেলায় পুকুরে ডুবে সিয়াম (৬) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে রায়গঞ্জে অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় মাথাসহ বুক পিষ্ট, ঘটনাস্থলেই এক ব্যক্তির মৃত্যু রায়গঞ্জে পুলিশ নারী হেল্পডেস্ক ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা রায়গঞ্জে এইচ.জি.বি.এল উচ্চ বিদ্যালয়ের নব গঠিত কমিটির পরিচিতি সভা ও অভিভাবক সমাবেশ রায়গঞ্জে মানবিক সহায়তা পেলেন ৩৮৫ দরিদ্র-অসহায় মানুষ রায়গঞ্জের নিমগাছীতে ট্রাকচাপায় মাছ ব্যবসায়ীর মৃত্যু, চালক পলাতক রায়গঞ্জে দেড়াগাঁতী রুদ্রপুর উচ্চবিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ নলকার উন্নয়নে নতুন প্রত্যয়, চেয়ারম্যান পদে লড়তে চান এস এম রেজাউল করিম ৩০ শতাংশ না দিলে প্রকল্প নয়’—ঘুড়কা ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ

সিরাজগঞ্জে দুই পক্ষের বিরোধে মসজিদে তালা, সড়কে নামাজ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:০১:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬৩ Time View

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটি ইউনিয়ন-এর পেঁচিবাড়ি জামে মসজিদে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে বিরোধের জেরে মসজিদে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে মুসল্লিরা বাধ্য হয়ে মসজিদের বাইরে সড়কের পাশে খোলা জায়গায় নামাজ আদায় করেন। রোববার ভোরে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মসজিদের ইমাম আব্দুল হাইয়ের কেরাত ও কয়েক বছর আগের কিছু বিষয় নিয়ে গ্রামবাসীর একাংশের আপত্তি ছিল। ১২ ফেব্রুয়ারির পর গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ তাঁকে পরিবর্তনের দাবি তোলেন। পরে সমঝোতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়, তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়াবেন এবং তারাবির নামাজ অন্য ইমাম দিয়ে পড়ানো হবে।

বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে মসজিদ কমিটির সভাপতি আবুল কালাম মাস্টারকে বলা হলে তিনি সেক্রেটারি মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেন। তবে বৈঠক নিয়ে মতভেদ তৈরি হয়। প্রথম তারাবির আগের দিন সভাপতি গ্রামবাসীকে জানান, এ বিষয়ে আলোচনায় বসা সম্ভব হচ্ছে না।

এ অবস্থায় গ্রামবাসীর একটি অংশ নতুন ইমাম নিয়ে মসজিদে গেলে সেখানে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে মুরব্বিরা পরিস্থিতি সামাল দিলেও বিরোধ মীমাংসা হয়নি।

শনিবার রাতে গ্রামের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অন্য ইমামের ইমামতিতে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করা হয়। তবে রোববার ফজরের নামাজ পড়তে গিয়ে মুসল্লিরা মসজিদের প্রধান ফটকে তালা ঝুলানো দেখতে পান। এতে তাঁরা বাইরে সড়কে নামাজ আদায় করেন। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, জামায়াত-সমর্থিত একটি পক্ষ মসজিদে তালা দেয়। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ইমামকে নিয়ে মতবিরোধ ছিল। তবে কে বা কারা তালা দিয়েছে, তা তিনি জানেন না।

বাগবাটি ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মো. ছানোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনাটিকে অযথা দলীয় রূপ দেওয়া হচ্ছে। এটি মূলত গ্রামের অভ্যন্তরীণ বিরোধ। মসজিদে তালা দেওয়ার ঘটনা সমর্থনযোগ্য নয়।

সদর থানার সহকারী উপপরিদর্শক শফিকুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। উপস্থিত লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি। পরে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও মসজিদ কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে তালা খুলে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

জমিজমা বিরোধে নিজেদের গ্যাসপাইপ নিজেরাই ভেঙে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর অভিযোগ

সিরাজগঞ্জে দুই পক্ষের বিরোধে মসজিদে তালা, সড়কে নামাজ

Update Time : ০৩:০১:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটি ইউনিয়ন-এর পেঁচিবাড়ি জামে মসজিদে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে বিরোধের জেরে মসজিদে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে মুসল্লিরা বাধ্য হয়ে মসজিদের বাইরে সড়কের পাশে খোলা জায়গায় নামাজ আদায় করেন। রোববার ভোরে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মসজিদের ইমাম আব্দুল হাইয়ের কেরাত ও কয়েক বছর আগের কিছু বিষয় নিয়ে গ্রামবাসীর একাংশের আপত্তি ছিল। ১২ ফেব্রুয়ারির পর গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ তাঁকে পরিবর্তনের দাবি তোলেন। পরে সমঝোতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়, তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়াবেন এবং তারাবির নামাজ অন্য ইমাম দিয়ে পড়ানো হবে।

বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে মসজিদ কমিটির সভাপতি আবুল কালাম মাস্টারকে বলা হলে তিনি সেক্রেটারি মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেন। তবে বৈঠক নিয়ে মতভেদ তৈরি হয়। প্রথম তারাবির আগের দিন সভাপতি গ্রামবাসীকে জানান, এ বিষয়ে আলোচনায় বসা সম্ভব হচ্ছে না।

এ অবস্থায় গ্রামবাসীর একটি অংশ নতুন ইমাম নিয়ে মসজিদে গেলে সেখানে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে মুরব্বিরা পরিস্থিতি সামাল দিলেও বিরোধ মীমাংসা হয়নি।

শনিবার রাতে গ্রামের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অন্য ইমামের ইমামতিতে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করা হয়। তবে রোববার ফজরের নামাজ পড়তে গিয়ে মুসল্লিরা মসজিদের প্রধান ফটকে তালা ঝুলানো দেখতে পান। এতে তাঁরা বাইরে সড়কে নামাজ আদায় করেন। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, জামায়াত-সমর্থিত একটি পক্ষ মসজিদে তালা দেয়। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ইমামকে নিয়ে মতবিরোধ ছিল। তবে কে বা কারা তালা দিয়েছে, তা তিনি জানেন না।

বাগবাটি ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মো. ছানোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনাটিকে অযথা দলীয় রূপ দেওয়া হচ্ছে। এটি মূলত গ্রামের অভ্যন্তরীণ বিরোধ। মসজিদে তালা দেওয়ার ঘটনা সমর্থনযোগ্য নয়।

সদর থানার সহকারী উপপরিদর্শক শফিকুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। উপস্থিত লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি। পরে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও মসজিদ কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে তালা খুলে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।